মি: সেলিম (spbondhu@yahoo.com) প্রশ্নঃ অন্যান্য ধর্মে বিভিন্ন প্রয়োজনের জন্য বিভিন্ন দাতা রয়েছে অথচ মুসলমানগণ এক আল্লাহকেই তাদের স্রষ্টা ও সবকিছুর মালিক এবং দাতা মনে করে। সংক্ষেপে নিম্নোক্ত প্রশ্নগুলো জানতে চাই-
*) আল্লাহর পরিচয় কি?
*) তিনি কোথায় থাকেন?
*) তাঁর কোন আকার আছে না তিনি নিরাকার; থাকলে তিনি দেখতে কেমন?
*) হিন্দুদের মত তাঁর কোন অবয়ব চিন্তা করা কিংবা তৈরী করার কোন সুযোগ কি ইসলামে আছে?
উত্তর: *) আল্লাহর পরিচয় কি? আল্লাহর পরিচয় জানতে হলে সূরা আল-ইখলাস অধ্যয়ন করতে হবে। আল্লাহ্ নিজেই বলেছেন- "বলুন তিনি আল্লাহ, তিনি একক সত্ত্বা। তিনি অমুখাপেক্ষী। তিনি কাউকে জন্ম দেননি, তাকেও কেউ জন্ম দেয়নি। তার সমকক্ষ কেউ নেই"। সূরা ইখলাস মূলত কাফেরদের এরকম প্রশ্নের উত্তরেই নাযিল হয়েছিল। প্রথম আয়াতে আল্লাহ বলেছেনঃ তিনি একক সত্ত্বা। একক সত্ত্বা বলতে যা বুঝায় তা হলোঃ তিনিই শুধু ছিলেন, আর কিছু ছিল না। তিনি যা হবে, আর যা হবে না সব কিছুই জানেন, লিখে রেখেছেন, নির্ধারণ করেছেন, সৃষ্টি করেছেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাহু 'আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ "কেবলমাত্র আল্লাহই ছিলেন, তাঁর পূর্বে কিছু ছিল না। তাঁর আরশ ছিল পানির উপরে। তিনি লাওহে মাহফুযে সব কিছু লিখিয়ে নিলেন। তারপর তিনি সৃষ্টি করলেন।" [সহীহ বুখারীঃ ৬৯৮২]
দ্বিতীয় আয়াতে আল্লাহ বলেছেনঃ তিনি অমুখাপেক্ষী। এর অর্থ হল: জাগতিক কোন চাহিদা তাঁর নেই। ফলে তার কোন স্ত্রী বা সন্তান কল্পনাও করা যায় না। খাওয়া-দাওয়া, অভাব-অনটন ইত্যাদি তাঁকে স্পর্শ করতে পারে না। আল্লাহ তা'আলা বলেনঃ "তিনি সবাইকে খাওয়ান, অথচ তাকে খাওয়ানো হয় না।" [সূরা আল-আন'আমঃ ১৪]যদি এরকম কোন চাহিদা থাকত, তবে তিনি প্রভু হওয়ার যোগ্যতা হারাতেন। আল্লাহ বলেনঃ "হে নবী! আপনি বলে দিন, যদি রহমানের কোন সন্তান হত, তবে আমি তাঁর (আল্লাহর) ইবাদত করা থেকে প্রথমেই ঘৃনা করতাম"। [সূরা আয-যুখরুফঃ ৮১]
তৃতীয় আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ তিনি কোন কিছু জন্ম দেন না। কারণ, জন্ম তারাই দেয়, যারা মনে করে, তাদের চলে যাওয়ার পরে তাদের সম্পদ, ক্ষমতা, কর্মকান্ডের উত্তরাধিকারী থাকা দরকার। আল্লাহ এমন নয় যে, তিনি চলে যাবেন, অথবা কখনো থাকবেন না। কেননা, তিনি তো চিরস্থায়ী, চিরঞ্জীব। এ আয়াতে আল্লাহ আরও বলেছেন যে, তাকে কেউ জন্ম দেয়নি। কারণ, জন্মদাতা যাকে জন্ম দিয়েছে তার পূর্বে থাকা বাধ্যতামূলক। আল্লাহর পূর্বে কেউ ছিল না। থাকলে তিনি ইলাহ হতে পারতেন না।
চতুর্থ আয়াতে আল্লাহ বলেনঃ তাঁর সমকক্ষ কেউ নেই। তাঁর সমকক্ষ কেউ থাকলে সেও ইবাদত পাওয়ার দাবি করত এবং এ নিয়ে দু'ইলাহের মধ্যে লড়াই বেধে যেত। আর তাতেই সৃষ্টিজগতের অস্তিত্ব বিপন্ন হত। আল্লাহ বলেনঃ "আল্লাহ্ কোন সন্তান গ্রহণ করেননি এবং তাঁর সাথে অন্য কোন ইলাহ্ নেই; যদি থাকত তবে প্রত্যেক ইলাহ্ স্বীয় সৃষ্টি নিয়ে পৃথক হয়ে যেত এবং একে অন্যের উপর প্রাধান্য বিস্তার করত। তারা যা বলে তার থেকে আল্লাহ্ কত পবিত্র!" [সূরা আল-মু'মিনূনঃ ৯১]। আল্লাহ আরও বলেনঃ "যদি আল্লাহ্ ছাড়া বহু ইলাহ্ থাকত আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীতে, তবে উভয়ই ধ্বংস হয়ে যেত। অতএব তারা যা বলে তা থেকে ‘আরশের অধিপতি আল্লাহ্ পবিত্র, মহান"। [সূরা আল-আম্বিয়াঃ ২২]। আরও বলেনঃ "বলুন, ‘যদি তাঁর সাথে আরো ইলাহ্ থাকত যেমন তারা বলে, তবে তারা ‘আরশ-অধিপতি হওয়ার উপায় খুঁজে বেড়াত"। [সূরা বনী ইসরাঈলঃ ৪২] সুতরাং, এ সূরা-য় আল্লাহ তা'আলা তাঁর নিজের পরিপূর্ণ পরিচয় তুলে ধরেছেন। এখানে তাঁর নাম, যাবতীয় গুনাগুন তুলে ধরা হয়েছে। এছাড়াও পবিত্র কুরআন ও সহীহ হাদীসের বহু স্থানে আল্লাহর পরিচয়, নাম, গুনাগুন উল্লেখ করা হয়েছে।
*) তিনি কোথায় থাকেন?তিনি তাঁর আরশের উপর আছেন। আরশ হল এক প্রকান্ড সৃষ্টি। যা তাকে বহন করার ক্ষমতা রাখে না। সমস্ত সৃষ্টিজগত আরশের সামনে অতি ক্ষুদ্র; যা আরশের সামনে মুদ্রার মত। দুনিয়ার রাজা-বাদশাহদের যেমন মসনদ থাকে, তাও তেমনি ধরনের মসনদ হলেও তার সৃষ্টি ভিন্নতর।
*) তাঁর কোন আকার আছে না তিনি নিরাকার; থাকলে তিনি দেখতে কেমন? আকার বলতে যদি বুঝায়ঃ সৃষ্টি জগতের কারও কোন আকার, তবে তাঁর তা নেই এবং তিনি তা থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত। আর যদি আকার বলতে তাঁর গুনাগুণ বোঝায়, তবে এটি অবশ্যই বিশ্বাস করতে হবে যে, তাঁর অসংখ্য গুণাগুণ রয়েছে। সেগুলো শব্দের দিক থেকে সৃষ্টি জগতের গুণাগুণের মত হলেও বাস্তবে ভিন্ন। যেমনঃ আল্লাহ নিজে তাঁর হাত আছে বলে ঘোষণা করেছেন। তিনি বলেছেনঃ "তাঁর দু'হাত উন্মুক্ত" [সূরা আল-মায়েদাহঃ ৬৪] কিন্তু তাঁর এ হাত সৃষ্টি জগতের কোন হাতের মত নয়। অনুরূপভাবে কুরআন ও হাদীসে তাঁর বহু গুণাগুণ বর্ণনা করা হয়েছে। যার আকার নেই, তার গুণাগুণ হতে পারে না। সে হিসেবে তাঁর আকার আছে। কিন্তু কোনভাবেই তাঁর আকারকে মানুষের জ্ঞানের পরিধিতে সীমাবদ্ধ করে নির্ধারণ করার উপায় নেই।
*) হিন্দুদের মত তাঁর কোন অবয়ব চিন্তা করা কিংবা তৈরী করার কোন সুযোগ কি ইসলামে আছে?
না, ইসলামে তেমন সুযোগ নেই।